অসম্পূর্ণতা

কোন কিছু অর্ধেক লিখে ড্রাফটে ফেলে রাখার আমার একটা স্বভাব আছে। কখনও সময় অলসতা করে লিখি না আর কখনও সময় পাই না।কখনো বা মনের আসল অবস্থাটা প্রকাশ করতে পারব না দেখে লিখা শেষ করি না। এই করতে করতে অনেক গুলো পোস্ট ড্রাফ্‌ট এ জমা হয়ে গেছে। আজকে ড্রাফট পোস্টগুলো দেখে একটু কস্টই লাগল। কিছু পোস্ট আর relevant না। কিছু পোস্ট যে ইমোশন নিয়ে লিখেছিলাম, ঐ ইমোশন এখন আর আসে না। আর অনেকগুলো পোস্টের প্লটটাই তো ভুলে গেছি।

এই ড্রাফ্‌ট গুলোর কিছু পোস্ট আছে যেগুলো শুধু আমার জন্যই। অনেক কথা আর অনেক ইমোশন আছে যেগুলো কাউকে বলা যায় না বা বলতে পারি না। বললে হয়তো বুঝবে না অথবা নিজের দুর্বলতা অন্য কাউকে দেখাতে হয়। তখন মনের অবস্থাসহ আর যা কিছু বলার সব লিখে ফেলি। অন্য কাউকে দেখানোর চেয়ে এইগুলো আমার হয়েই থাক।

কোন কিছু লিখতে গেলে অনেক কিছু চিন্তা করে গুছিয়ে লিখতে হয়। মনের অনুভুতিগুলোকে একটার পর একটা সাজিয়ে নিতে হয়। এটার একটা বেশ ভাল দিক আছে। মনের বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবতা বা অনুভুতি গুলো গুছানো হয়ে যায়। অনেকটা এলোমেলো ঘর গুছানোর মত। মনের অনুভুতিগুলো তখন আর প্রবল হয়ে দেখা দেয় না। হোক না সে অনুভূতি আনন্দময় অথবা বেদনাঘন। লিখার মাধ্যমেই অনুভূতিগুলোর লাগাম টেনে ধরি।

আজ ড্রাফ্‌টগুলো দেখে একটু আবেগতাড়িত হয়ে পরেছিলাম। কত কথা আর কতকিছু লিখার ছিল। সময়ের অভাবে লিখা হয় নি অথবা মনের অনুভূতিগুলো এতটাই বিক্ষিপ্ত ছিল যে কোন ভাবেই গুছাতে পারছিলাম না। ড্রাফট এর লিখা গুলো দেখে মনে হচ্ছিল যে এক এক করে প্রতিটা ড্রাফ্‌টকে শেষ করব। কিন্তু একটা ড্রাফ্‌ট নিয়ে শুরু করার পর দেখলাম পুরনো লিখা আর নতুন করে শুরু করতে ভাল লাগে না। পুরনো অনেক কিছুই আছে যা পুরনোতেই মানায়। এই পুরনো গুলোই অমূল্য আর এগুলোই উজ্জ্বল হয়ে পথ দেখায়। থাকুক না এই অসম্পূর্ণ লিখাগুলো আমার অনেক অসম্পূর্ণতার অংশ হয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *